চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের কাপড়সহ একটি ৪০ ফুট লম্বা কনটেইনারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের জন্য আনা ওই কনটেইনারটি খালাস নিতে গিয়ে না পাওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দরসচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
কনটেইনারে ছিল ৬৬৮ বেল কাপড়
বন্দর সূত্র জানায়, এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের কনটেইনারটিতে ৬৬৮ বেল কাপড় ছিল। সাভারের বিরুলিয়ার গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের নামে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে চালানটি আমদানি করা হয়।
কনটেইনারটি এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজ থেকে ১৭ মে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে নামানো হয়। আমদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় তখন চালানটি ছাড় করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সাইন্ড সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড পণ্য খালাসের জন্য ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে এবং শুল্কায়ন সম্পন্ন করে। এরপর কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করা হয়।
খালাস নিতে গিয়ে কনটেইনারের সন্ধান মেলেনি
৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাস নিতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি কিপ ডাউন ও ডেলিভারি দিতে পারেনি। পরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে কনটেইনারটি খুঁজতে বলা হয়।
৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোঁজ করেও কনটেইনারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ সময় বিষয়টি প্রতিদিন টার্মিনাল ম্যানেজার, এটিও ও টিওকে অবহিত করা হয়।
এসব বিষয় উল্লেখ করে ২ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেন এসআরএস সাইন্ড সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান।
মো. হাফিজুর রহমান জানান, কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারি নিতে গেলে সেটি পাওয়া যায়নি। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কনটেইনারটির সন্ধান না পাওয়ায় গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও সমস্যায় পড়েছে। কনটেইনারে থাকা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য বায়ারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না বলেও তিনি জানান।
অন্য প্রতিষ্ঠান কনটেইনার নিয়ে যাওয়ার তথ্য
তবে বন্দরের নথি সূত্রে জানা গেছে, এসআরএস সাইন্ড সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের পণ্য খালাস করার কথা থাকলেও অন্য একটি প্রতিষ্ঠান কনটেইনারটি নিয়ে গেছে।
এসআরএস সাইন্ড সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেডের জেটি সরকার মো. মোয়াজ্জেমুল হক জানান, আফরিন ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ১১ আগস্ট বন্দর থেকে কনটেইনারটি অনসেসিস ডেলিভারি নিয়ে গেছে।
কনটেইনারটি কীভাবে অন্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দরসচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন:







