মঙ্গলবার

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

কনটেইনারে পণ্য নেই, কাগজে সাড়ে ৫ কোটি টাকার রপ্তানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪০

শেয়ার

কনটেইনারে পণ্য নেই, কাগজে সাড়ে ৫ কোটি টাকার রপ্তানি
ছবি সংগৃহীত

কনটেইনারে কোনো পণ্য নেই, অথচ কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি। এমন পাঁচটি সন্দেহজনক রপ্তানি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চালানগুলোতে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি বা প্রায় ১২১ টন পণ্য রপ্তানি দেখানো হলেও বাস্তবে এসব পণ্য সংশ্লিষ্ট কনটেইনার ডিপোতেই প্রবেশ করেনি।

পাঁচ চালানে রপ্তানি দেখানো ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিশেষ তৎপরতায় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের এসব চালান আটকের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রপ্তানি-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের সময় প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি চালান গোয়েন্দাদের নজরে আসে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে রপ্তানির গন্তব্য, পণ্যের ধরন এবং ঘোষিত মোট ওজনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়। এরপর চালানগুলো আটকে অধিকতর যাচাই শুরু করা হয়।

পাঁচটি চালানে মোট ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

ডিপোতে গিয়ে মেলেনি ঘোষিত কোনো পণ্য

দাখিল করা রপ্তানি বিলের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যগুলো ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। পরে কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা সরেজমিনে ওই ডিপোতে গিয়ে ঘোষিত পণ্য দেখানোর নির্দেশ দেন।

কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য খালাস ও পরিবহনকারী কোনো পণ্যই দেখাতে পারেননি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো ডিপোতে প্রবেশই করেনি।

অথচ পণ্য ডিপোতে না ঢুকলেও কীভাবে এসব চালানের কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

আমদানি কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্যে অসামঞ্জস্য

প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির গত এক বছরে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণও অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

সাধারণত আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ এবং তা দিয়ে উৎপাদিত রপ্তানি পণ্যের মধ্যে নির্দিষ্ট সামঞ্জস্য থাকার কথা। কিন্তু ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের ক্ষেত্রে সেই সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।

জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, পণ্যের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই রপ্তানি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, পণ্য খালাস ও পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান, ডিপো কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা তদন্ত করা হচ্ছে।

পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করেই কীভাবে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, এখন সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস আইনসহ অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।