মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ব্যয়ে শীর্ষে, সুবিধায় পিছিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৮:১৬

আপডেট: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৮:১৬

শেয়ার

ব্যয়ে শীর্ষে, সুবিধায় পিছিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে
ছবি সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে থাকলেও এর অবকাঠামোগত সুবিধা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা। গত বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার পর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকায়, যা অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।

২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসড়ক প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা, যা প্রথম সংশোধনীতে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায়। প্রকল্পের ডিপিপি পাস হয় ২০১৭ সালে এবং ঠিকাদারের সঙ্গে চায়না কমার্শিয়াল লোনের চুক্তি সম্পন্ন হয় ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে।

তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, চীনের সিচুয়ান প্রদেশে নির্মিত ইবিন-পানঝিহুয়া এক্সপ্রেসওয়েতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা, মালয়েশিয়ার দামনসারা-শাহ আলম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৬৩০ কোটি টাকা এবং ভারতের দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের একাধিক এলিভেটেড মহাসড়ক প্রকল্পেও ব্যয় ঢাকা-আশুলিয়ার তুলনায় কম বলে জানানো হয়।

বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, দেশের মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ব্যয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় বেশি হলেও সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্মাণমান, পরিবেশগত সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। শুধু প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয়ের তুলনা করলেই প্রকল্পের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হওয়ার পর এর আর্থিক লাভজনকতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তিনি প্রকল্পের নিরপেক্ষ বাস্তবায়নোত্তর মূল্যায়নের সুপারিশ করেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্স-কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেল ও পাতালরেলের সঙ্গে সংযোগের প্রয়োজনীয়তার কারণে ব্যয় বেড়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আখতারও একই ধরনের কারণ উল্লেখ করেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল এবং নকশা পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বেড়েছে। ভবিষ্যতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক সমীক্ষা চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি।



banner close
banner close