সোমবার

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ট্রান্সকমের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক: বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৭

শেয়ার

ট্রান্সকমের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

ট্রান্সকম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুপরিকল্পিত কৌশলে ভ্যাট ফাঁকির মাধ্যমে রাষ্ট্রের রাজস্ব ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

ভ্যাট তদন্তে যা উঠে এসেছে

জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ট্রান্সকম গ্রুপের কার্যক্রমের ওপর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ২০২৫ প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, ভ্যাট ফাঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি কৌশলে নিজেদের সেবাকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে দেখিয়ে ভ্যাট নিবন্ধন সংশোধন করে। এর ফলে যেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল, সেখানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করা হয়। এতে সরকারের প্রায় ৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই পদ্ধতি অনুসরণ না করলে প্রতিষ্ঠানটিকে ১২০ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি ভ্যাট পরিশোধ করতে হতো। এছাড়া তদন্তে ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স নামে আয়ের অর্থ দেখিয়ে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগও উঠে এসেছে।

ট্রান্সকমের ব্যাখ্যা

ট্রান্সকম গ্রুপ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্টদের কাছে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স কোনো ব্যয় নয়; বরং এটি আইটি সাপোর্ট সার্ভিস থেকে অর্জিত আয়। তাদের মতে, এই সেবা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় ভ্যাট আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

নীতি বিভাগের মতামত ও তদন্তের অগ্রগতি

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নীতি বিভাগের মতামত চাওয়া হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই গাফিলতির সুযোগে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগটি আইনের ফাঁক গলে এড়িয়ে যেতে পারে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অন্যান্য অভিযোগ

ট্রান্সকম গ্রুপের সম্পদ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগও আগে থেকে রয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানকে এসব জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আরজেএসসিতে জমা দেওয়া সিমিন রহমানের শেয়ারসংক্রান্ত নথিপত্র ভুয়া। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে জমা দেওয়া একটি স্ট্যাম্প পেপারের সৃষ্টি হয়েছে ২০২৩ সালে। এছাড়া সরকারি দপ্তরে কাগজপত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারে জমা দেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, শেয়ার জালিয়াতির পাশাপাশি ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের একমাত্র ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে হত্যার নেপথ্যেও সিমিন রহমানের নাম উঠে এসেছে।

ইলিয়াস হোসাইনের ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিমিন রহমান ও তার মা শাহনাজ রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে শেয়ার জালিয়াতি মামলায় সিমিন রহমানসহ সব আসামি অব্যাহতি পেলেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রান্সকম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ১২০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।



banner close
banner close