শুক্রবার

২৪ জুলাই, ২০২৬ ৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৩

শেয়ার

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থায় দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে। খবর রয়টার্সের।

নতুন শুল্ক কার্যকরের প্রেক্ষাপট

হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় ঘোষিত প্রায় বৈশ্বিক শুল্কব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের অধীনে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রেসিপ্রোক্যাল শুল্ক আরোপ করেছিলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দেন।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক নোটিশে নতুন শুল্কের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্যসহ বেশ কয়েকটি পণ্য এ শুল্কের বাইরে থাকবে।

সেকশন ৩০১-এর অধীনে শুল্ক

১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর অধীনে এ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও প্রায় সব আমদানির ওপর একটি ন্যূনতম শুল্ক বহাল রাখা সম্ভব হবে। প্রশাসনের ধারণা, সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ টিকে যাওয়ায় নতুন শুল্ক আগের তুলনায় কম আইনি ঝুঁকিতে থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের ফেব্রুয়ারির রায়ের পর ১৫০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প, যার মেয়াদ শুক্রবার (২৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হয়েছে। একই মুহূর্ত থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন শুল্ক। তবে ২৮ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির বক্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্য অংশীদাররাও একই কাজ করবে।

তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা সংশোধনের মাধ্যমে বিশ্বের শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

গ্রিয়ার এর আগে বলেছিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং যেসব চুক্তিতে সর্বোচ্চ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে, নতুন ফোর্সড লেবার শুল্ক সেই সীমার ওপরে যাবে না।

যেসব দেশের ওপর শুল্ক

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট কার্যকর শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

অন্য ৩৮টি দেশের জন্য শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এই দেশগুলোর মধ্যে চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে কাজ করায়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

চীনা পণ্যের শুল্ক নিয়ে পরিকল্পনা

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ২০ শতাংশ শুল্কহার পর্যন্ত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের চীনা পণ্যের শুল্ক পুনর্বহাল করার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তার বেশি নয়। শুক্রবারের পদক্ষেপের আগে প্রথম মেয়াদের শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাদে চীনা পণ্যের কার্যকর শুল্কহার ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল।



banner close
banner close