শনিবার

১৮ জুলাই, ২০২৬ ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

৫ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৬

শেয়ার

৫ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে স্পট মার্কেট থেকে একযোগে ২০ হাজার কোটি টাকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে জ্বালানি বিভাগ এই এলএনজি কিনবে। প্রতি ইউনিট এলএনজির জন্য ১৭ থেকে ১৯ ডলার দর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ও পেট্রোবাংলা ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করেছে। প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দর এখনো চূড়ান্ত নয়; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দর নিয়ে সমঝোতার পর প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ক্রয় জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হবে।

দেশে বর্তমানে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে আমদানি করা এলএনজির পরিমাণ ১০৫ কোটি ঘনফুটের বেশি। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোবাংলা প্রতি মাসে ১০টির বেশি এলএনজি কার্গো আমদানি করে থাকে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে, আগামী পাঁচ মাসে ৫০টির বেশি কার্গো প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় মাসে চার থেকে পাঁচটি কার্গো পাওয়া যেতে পারে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কিনলে তুলনামূলক সস্তায় এলএনজি পাওয়া যেতে পারে—এমন বিবেচনা থেকে জি-টু-জি নীতিমালার আওতায় ১৮টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান সাড়া দিয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটল (যুক্তরাষ্ট্র), টোটাল এনার্জি (যুক্তরাজ্য), হানবোর (যুক্তরাষ্ট্র), গানবোর (সিঙ্গাপুর), এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অরচার এনার্জি ও সিকার ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগ, এডনক ট্রেডিং, আইআরএইচ গ্লোবাল ট্রেডিং এবং সরকার ট্রেডিং। এই প্রতিষ্ঠানগুলো গত মঙ্গলবার অনলাইনে দরপত্র জমা দেয় এবং বৃহস্পতিবার প্রস্তাবের মূল কপি কুরিয়ারযোগে পেট্রোবাংলায় পাঠানো হয়। বর্তমানে স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ২০ ডলারের বেশি চলছে বলে জানা গেছে। প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানিতে সরকারের ৬৫০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, যে হিসাবে ৩০ কার্গোর জন্য মোট ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সরকারের একাংশ অবশ্য একযোগে এত বড় পরিমাণ এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে কেনার পক্ষে নয়। তাদের যুক্তি, যুদ্ধ থামলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যেতে পারে, যেমনটি আগের মাসে দেখা গিয়েছিল, যখন ১৮-১৯ ডলারের এলএনজি নেমে ১৫-১৬ ডলারে চলে আসে। পাঁচ মাসের জন্য এখনই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেলে পরে দাম কমলেও বেশি দরে কিনতে বাধ্য থাকবে সরকার।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সর্বশেষ কাতার এনার্জি থেকে প্রতি ইউনিট ১৩ দশমিক ৭২ ডলারে এলএনজি কেনা হয়েছিল। যুদ্ধের আগে বাংলাদেশ মূলত কাতার, ওমান ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি সংগ্রহ করত। যুদ্ধ শুরুর পর কাতার, ওমান ও এক্সিলারেট এনার্জি সরবরাহ স্থগিত করে দেয়; এর মধ্যে কাতার এনার্জি আংশিকভাবে সরবরাহ পুনরায় শুরু করলেও বাকিরা এখনো তা করতে পারেনি। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের গ্যাসক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, ফলে যুদ্ধ থামলেও আগামী পাঁচ বছর তারা আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম সরবরাহ দিতে পারবে। গত বছর সরকার ৪৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করেছিল; চলতি বছর এই ব্যয় ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



banner close
banner close