শুক্রবার

৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৪৫

শেয়ার

ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার
ছবি সংগৃহীত

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। অথচ মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, প্রত্যাশিত বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ না পাওয়া এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি—এই তিন কারণে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভর করতে হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৭ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই সরকারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় ব্যয় নির্বাহে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ নিতে হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ১১ মাস ২৩ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই বৃদ্ধি ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। ফলে এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল।

সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। আর নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রতিবছরই বাজেটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঘাটতি রাখা হয়, যা পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেয়। তবে বৈদেশিক উৎস থেকে প্রত্যাশিত অর্থায়ন না এলে ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানিসহ অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর সরকারের নির্ভরতা বেড়ে যায়।



banner close
banner close