শনিবার

১৩ জুন, ২০২৬ ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বাজেট বাস্তবায়নের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬ ১১:৫৩

শেয়ার

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বাজেট বাস্তবায়নের তাগিদ
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এই বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে করছাড় এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থায়ী কর কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিধান চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে এই বাজেটে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ টাকা এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত রাখার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বাধা দূর করতে ব্যবসা নিবন্ধন ও সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তির আবেদন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সংস্থাগুলো মতামত না দিলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া অনলাইনে ফি পরিশোধের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা এবং সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স সেবাকে কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিগত দেড় বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে জানানো হয়, শিল্পকারখানায় অস্থিরতা, ঋণ পরিশোধে উচ্চ সুদের হার এবং ব্যবসায়ীদের ওপর নানামুখী আইনি হয়রানির কারণে বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে অনেক ব্যবসায়ীর ওপর দীর্ঘ ২১ মাস ধরে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিনিয়োগ বাড়াতে এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকিতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক সরেজমিনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাজেট বাস্তবায়নেও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতকে সরকারের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।



banner close
banner close