আমাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থিতিশীল করা। অনেকেই বিভিন্ন কথা বলছেন, তবে বাস্তবতা হলো পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগে থেকেই সমস্যাগ্রস্ত ছিল। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আগের সরকার একটি স্কিম করে গেছে, সেই অনুযায়ী এখন পেমেন্ট দেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, আমরা নিজেরাও এক ধরনের দ্বন্দ্বে আছি। কিছু মানুষ ব্যাংকে টাকা রেখেছে, আর অন্য একটি গোষ্ঠী সেই টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একজন করদাতা তিনি রিকশাচালক হোন বা অন্য কেউ, যিনি পণ্য কিনে পরোক্ষভাবে কর দেন, তার টাকার কতটুকু ব্যবহার করে এই ক্ষতি পূরণ করা হবে? এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের নীতিগত দ্বিধা রয়েছে।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি সক্ষমতার বিষয়ও আছে। আমাদের জানামতে, ব্যাংক খাতে সার্বিক কোনো সংকট নেই। মূলত পাঁচটি ব্যাংকে সংকট রয়েছে এবং আরও কিছু ব্যাংকের কিছু সমস্যা আছে। এসব বিষয়ে আমরা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। কারণ, একসঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব খাত থেকে এনে দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি বাস্তবতা। তাই অন্য যে-সকল আর্থিক প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, টাকা চুরির বিষয়টি আমরা প্রথম দিন থেকেই কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। এ জন্য একটি ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে এবং আমরা নিয়মিত বৈঠক করছি। তবে নির্মম সত্য হলো, বিশ্বব্যাপী চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের সাফল্যের হার খুবই কম। তবু এর অর্থ এই নয় যে, আমরা চেষ্টা বন্ধ করে দেব।
গভর্নর বলেন, সাধারণত এসব সম্পদ উদ্ধার করতে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। তারপরও আমাদের অঙ্গীকার হলো, যারা টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে তাদের শান্তিতে থাকতে দেয়া হবে না। বিভিন্ন দেশে সম্পদ জব্দের কাজ চলছে। আমরা একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছি এবং প্রায় ১০টি সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে তাদের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের একটি যৌথ তদন্ত দলও রয়েছে, যারা নিয়মিত কাজ করছে। ইতোমধ্যে আমরা কিছু ছোট সাফল্য পেয়েছি। সময়মতো এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো যাবে। কিছু অর্থও আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে যারা টাকা পাচার করেছে, তারা সাধারণত এক দেশ থেকে আরেক দেশে অর্থ সরিয়ে নেয় এবং বহু স্তরে লেনদেন গোপন করে। ফলে তাদের অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও আমরা তাদের অনুসরণ অব্যাহত রাখব, তারা যেখানেই থাকুক না কেন।
আরও পড়ুন:








