শনিবার

৬ জুন, ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিমান ভাড়া বেড়েছে লাগামহীনভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬ ০৯:৩০

শেয়ার

বিমান ভাড়া বেড়েছে লাগামহীনভাবে
ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভাড়া গত দেড় থেকে দুই বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় বহুগুণে বেড়ে গেছে।

রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা ও নিয়মিত আন্তর্জাতিক যাত্রী মাসুদ রানা খানের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–কুয়ালালামপুর রুটে আগে যেখানে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তিনি জানান, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই রুটে ভাড়া ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু মালয়েশিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রায় সব আন্তর্জাতিক রুটেই ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন রুটে আগে যেখানে যাওয়া-আসার ভাড়া ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

অভ্যন্তরীণ রুটেও ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। আগে ঢাকা থেকে রাজশাহী বা সৈয়দপুর রুটে ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় যাতায়াত করা গেলেও বর্তমানে ভাড়া ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা এবং শেষ মুহূর্তে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। ঢাকা–কক্সবাজার রুটেও ভাড়া বেড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা হয়েছে, কখনও শেষ মুহূর্তে ১০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা থেকে নিয়মিত যাত্রী আব্দুর রহমান জানান, দেড় থেকে দুই বছরের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন।

ট্রাভেল এজেন্সি মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বিমান ভাড়া চাহিদা ও মৌসুমি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সব আন্তর্জাতিক রুটেই ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আসন্ন ওমরাহ মৌসুমে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

বেসরকারি এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিমান ভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন ব্যয় বেড়েছে, ফলে ভাড়া সমন্বয় করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দফায় জেট ফুয়েলের মূল্য ওঠানামা করেছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম বিভিন্ন সময় ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকার বেশি নির্ধারণ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছুটা হ্রাসও করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জ্বালানির মূল্য ও আসন চাহিদার তারতম্যের কারণে ভাড়া পরিবর্তিত হয়। তার মতে, মৌসুমি চাপ ও বাজার পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়া বেশি মনে হতে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের ওপর কর ও ভ্যাটের চাপ, ডলারের মূল্য ওঠানামা এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিমান ভাড়া স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা সরকারকে জ্বালানির ওপর কর ও চার্জ পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় খাতে ভাড়া বৃদ্ধির এই প্রবণতায় যাত্রীদের ব্যয় বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া কমার সম্ভাবনা সীমিত।



banner close
banner close