ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন, তবে তাঁর স্ত্রীর যৌথ মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ কারণে খুরশীদ আলমকে ঋণখেলাপি হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়, কারণ ঋণটি তাঁর নিজের নামে নয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খুরশীদ আলমের স্ত্রী আফরোজা আক্তার এগ্রোক্রপ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির পরিচালক। পাঁচজনের যৌথ মালিকানাধীন এই কোম্পানির নামে মোট ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং মেঘনা ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যে আজও ঋণটি খেলাপি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফরোজা আক্তারের নামে হলেও ঋণ অনুমোদন ও কিস্তি পরিশোধের পুরো বিষয়টি তদারকি করেছেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম। এগ্রোক্রপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আলেয়া খানম চৌধুরী, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জামাল মোল্লার স্ত্রী। ধারণা করা হচ্ছে, খুরশীদ আলম ও জামাল মোল্লা যৌথভাবে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা আড়াল রাখতে স্ত্রীদের নাম ব্যবহার করেছেন।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমের নিয়োগের পর তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের একটি পুরোনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস-২০০৩-এর ৪৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী তাঁর দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘ আট বছর পর ওই ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং তাঁকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল তা যথাযথ ছিল না। এ কারণেই পরবর্তীকালে তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর পদে পদোন্নতি পান।
উল্লেখ্য, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেবল ইনক্রিমেন্ট বন্ধের মতো লঘু শাস্তি প্রদান করা হলে সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নিয়োগের পর সেসব পুরোনো অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। ঋণখেলাপির প্রশ্ন এবং অতীতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত ঋণখেলাপির তথ্য সঠিক নয় এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:








