মঙ্গলবার

২ জুন, ২০২৬ ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ জুন, ২০২৬ ১৬:৩৬

শেয়ার

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা
ছবি সংগৃহীত

দেশের ব্যাংক খাতে আবারও উদ্বেগজনক হারে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ খেলাপি ছিল, যা মার্চ শেষে আরও ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকায়। তিন মাসে মোট ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। যদিও এ সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল, তবুও ঋণের ওপর সুদ যুক্ত হওয়ায় মোট ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ কমাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নীতি সহায়তার মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনেক ঋণগ্রহীতা বিশেষ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রত্যাশিত হারে খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের ওপর সুদ যোগ হওয়ায় মোট অঙ্ক আরও বেড়েছে।

তিনি জানান, নীতি সহায়তার আওতায় যারা ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, তারা দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পেয়েছেন। ফলে এই সময়ে ঋণ আদায়ের গতি কম রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে যারা ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, তাদের অনেকেই মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে সুবিধা নিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

পরবর্তীতে বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় বড় অঙ্কের বেশ কিছু ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



banner close
banner close