শনিবার

৩০ মে, ২০২৬ ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আয়কর রিটার্ন দেরিতে জমা দিলে সুদ-জরিমানা ও রেয়াত হারানোর ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬ ১০:৩২

শেয়ার

আয়কর রিটার্ন দেরিতে জমা দিলে সুদ-জরিমানা ও রেয়াত হারানোর ঝুঁকি
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত সময়ের পরেও আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দেরিতে জমা দিলে বকেয়া করের ওপর সুদ, জরিমানা এবং কর রেয়াতের সুবিধা হারানোর মতো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে করদাতাদের।

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল চলতি বছরের ৩১ মার্চ। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও করদাতাদের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নির্দিষ্ট সুদ ও জরিমানা পরিশোধ করে এখনও অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সারা বছর খোলা রয়েছে।

দেরিতে রিটার্ন জমা দিলে বকেয়া করের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপ করা হবে। এই সুদ সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে জীবনবিমা, সঞ্চয়পত্র, পেনশন স্কিম ও অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতের সুবিধা পাওয়া যাবে না। কর রেয়াতের পরিমাণ নির্ধারণে মোট আয়ের নির্দিষ্ট অংশ, অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে সর্বনিম্ন অঙ্ক বিবেচনা করা হয়।

দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে মাত্র প্রায় ৪২ লাখ করদাতা নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন। অনেকে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের প্রয়োজনে টিআইএন নিলেও পরবর্তীতে রিটার্ন জমা দেন না। টিআইএন থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে রিটার্ন না দিলে ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ, জমি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১৫ হাজার এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭২ হাজারের বেশি করদাতার নথি বাছাই করা হয়েছে। এই নির্বাচন স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হওয়া অর্থ কর ফাঁকির অভিযোগ নয়। এটি রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব আর্থিক তথ্যের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়া।

নিরীক্ষায় নির্বাচিত করদাতাদের ক্ষেত্রে উপ-কর কমিশনার প্রয়োজন মনে করলে শুনানির জন্য ডাকবেন। শুনানিতে আয়, ব্যয়, সম্পদ ও বিনিয়োগের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে। শুনানির সুযোগ না দিয়ে অতিরিক্ত কর আরোপ করা যাবে না।

যারা ৩১ মার্চের আগে যথাযথ আবেদন করে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বৃদ্ধি নিয়েছেন, তারা নির্ধারিত বাড়তি সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো সুদ বা জরিমানা দিতে হবে না এবং কর রেয়াতসহ অন্যান্য সুবিধাও পাবেন।

এনবিআরের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করা যায়। রিটার্ন জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নের কপি, স্বীকৃতিপত্র, আয়কর সনদ ও টিআইএন সনদ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা সম্ভব।

করদাতাদের উচিত রিটার্নের সমর্থনে বেতন সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের নথি, সম্পদের দলিল, ঋণের প্রমাণপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা। বড় অঙ্কের ব্যাংক লেনদেনের উৎস এবং আয়, ব্যয় ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা জরুরি।



banner close
banner close