শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার স্থাপনের পর ফ্লাইং ওভার চার্জ বাবদ রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সমগ্র আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইং ওভার চার্জ বাবদ আদায় হয়েছিল ১৫৭ কোটি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ টাকায়। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চে এই আয় আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকায় পৌঁছেছে।
মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আদায় হয়েছিল ৫৩ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৫৮০ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৬৭ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে এই মাসে আদায় হয়েছিল ৪৭ কোটি ৪৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা, ২০২৫ সালে তা ৫৮ কোটি ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ১১৩ টাকা এবং ২০২৬ সালে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ২২৬ টাকা। মার্চ মাসে ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে যথাক্রমে ৫৬ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার, ৫৮ কোটি ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৮৭০ এবং ৬২ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ১০৮ টাকা আদায় হয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ জানান, নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকে ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় বেড়েছে। এর পাশাপাশি দেশের সমগ্র আকাশসীমায় শতভাগ নজরদারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে রাডার এড়িয়ে কোনো ফ্লাইট দেশের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ জানান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই টাওয়ার ফ্লাইট নিরাপদে ওঠানামার পাশাপাশি পুরো দেশের আকাশসীমাকে নজরদারির আওতায় এনেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, পুরোনো রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের সমগ্র আকাশসীমা, বিশেষত বঙ্গোপসাগর অঞ্চল, নজরদারির আওতায় আসত না। ফলে ওই অঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি বিমান থেকে নির্ধারিত ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় সম্ভব হত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে।
নতুন এটিসি টাওয়ারে স্থাপিত এস-ব্যান্ড প্রাইমারি রাডার ৮০ নটিক্যাল মাইল এবং মোড-এস সেকেন্ডারি সার্ভেইল্যান্স রাডার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত কভারেজ প্রদান করে। এই ব্যবস্থায় কলকাতা ও ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস ইন্টার-ফ্যাসিলিটি ডেটা কমিউনিকেশনও বাস্তবায়িত হয়েছে।
প্রকল্পের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ফ্রান্স দূতাবাস ফরাসি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থ্যালেসের মাধ্যমে রাডার ও এটিএম-সিএনএস সিস্টেম এবং এটিসি টাওয়ার স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। ২০১৯ সালের ৮ মে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি সরকার-থেকে-সরকার বা জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০২১ সালের ৩১ মার্চ সিসিইএ সভায় প্রকল্পটি সিএএবি-এর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে ৯৪২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে এটিসি টাওয়ার পরিচালনায় যায়। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন:








