সোমবার

৬ জুলাই, ২০২৬ ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অনিশ্চয়তায় বাড়ল তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬ ১১:২২

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অনিশ্চয়তায় বাড়ল তেলের দাম
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। তবে সপ্তাহজুড়ে দাম ওঠানামার পরও সাপ্তাহিক হিসাবে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই- দুই ধরনের তেলই লোকসানের দিকেই রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানায়, সিঙ্গাপুর সময় সকাল ৪টা ৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয় ৯৭ দশমিক ৪৬ ডলার।

যদিও সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে বারবার আশা-নিরাশার কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনায় “কিছু ইতিবাচক সংকেত” থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে এখনও তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে।,

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও সরবরাহ সংকটের কারণে তেলের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকবে। ক্যাপিটাল ইকোনমিস–এর প্রধান পণ্য বিশ্লেষক ডেভিড অক্সলি বলেন, বাজারের মৌলিক অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। বর্তমানে সংঘাতের কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বাজার থেকে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ১৪ শতাংশ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ADNOC জানিয়েছে, যুদ্ধ এখনই শেষ হলেও ২০২৭ সালের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকের আগে হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণমাত্রায় তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে না।

অন্যদিকে, আগামী ৭ জুন বৈঠকে বসতে যাচ্ছে OPEC+। সেখানে জুলাই মাসের জন্য তেল উৎপাদন কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে অনেক দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও ব্যাহত রয়েছে।,



banner close
banner close