শুক্রবার

২২ মে, ২০২৬ ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ছাড়াল ২০ হাজার কোটি টাকা, এক বছরে বৃদ্ধি ২৯০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬ ০৮:৪৫

শেয়ার

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ছাড়াল ২০ হাজার কোটি টাকা, এক বছরে বৃদ্ধি ২৯০ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত

দেশের কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১১১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বা প্রায় ২৯০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ বাস্তবতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং বিদ্যমান খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণের হার এখনও সন্তোষজনক নয়। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে কৃষি ঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কৃষি খাতেও ব্যাপক হারে বেনামি ও ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। এসব ঋণের একটি বড় অংশ বর্তমানে আদায় হচ্ছে না এবং ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণে পরিণত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব এখন কৃষি খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি ঘটেছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে। ২০২৪ সালের মার্চে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকায়। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ২৯৫ শতাংশেরও বেশি।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ ২৭৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ২২৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

অন্যদিকে সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৮৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার প্রায় ২২০ শতাংশ।

তুলনামূলকভাবে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি কম দেখা গেছে। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৫৯০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি।

খেলাপি ঋণের পাশাপাশি কৃষি খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। এক বছর পর তা বেড়ে ২২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ এ সময়ে বকেয়া ঋণ বেড়েছে প্রায় ১২৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বকেয়া ঋণের বড় অংশ দ্রুত পরিশোধ না হলে সেগুলোও ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণে পরিণত হতে পারে। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের বকেয়া ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, কারণ কৃষি খাতে ঋণ বিতরণেও এসব ব্যাংকের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একই সময়ে কৃষি ঋণ আদায়ের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আদায়যোগ্য হলেও আদায় হয়নি এমন ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। ফলে আগামী দিনে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



banner close
banner close