আগামী জাতীয় বাজেটে করহার পরিবর্তনের পাশাপাশি করজাল সম্প্রসারণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ চট্টগ্রামের খুলশীর মতো অভিজাত এলাকায় বসবাসকারীদের কর নথি যাচাইয়ে ডোর-টু-ডোর জরিপ চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে অভিজাত এলাকার শপিংমল, শোরুম ও রেস্টুরেন্টে ভ্যাট আদায়ও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে।
বাজেটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে করদাতার সীমিত একটি অংশের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে করের আওতা বাড়াতে দেশের অভিজাত এলাকাগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করজাল সম্প্রসারণের পাশাপাশি সম্পদ কর আদায় বাড়াতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরে সম্পদ কর থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য জমির মৌজামূল্য বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজও শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, প্রগ্রেসিভ করব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কর কাঠামোয় ন্যায্যতা আনা সম্ভব।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও কর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের একটি অংশ করজালের বাইরে থেকে গেছে। দলটি ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ এবং আধুনিক সম্পত্তি করব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর গুলশান ও বনানীর মতো এলাকায় মাঝারি আকারের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা পর্যন্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত লেনদেন ও কর তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। এসব লেনদেন কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিটার্নে অপ্রদর্শিত সম্পদ বৈধ করার বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে প্রথম বাজেটেই সরাসরি কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায় না সরকার। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভ্যাট আদায় বাড়াতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, আগামী বাজেটে কর্মসংস্থানমুখী শিল্পে কর অবকাশ সুবিধা নতুনভাবে চালুর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে এ সুবিধার সঙ্গে ‘সানসেট ক্লজ’ যুক্ত থাকবে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে। আগে চালু থাকা ৩২টি খাতের কর অবকাশ সুবিধা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছিল।
নতুন করে কর সুবিধা পেতে পারে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট, কৃষিযন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক উপাদান, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং, খেলনা, টায়ার, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাত। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, অটোমেশন, রোবোটিক্স ও ন্যানোটেকনোলজি খাতও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
আরও পড়ুন:








