শুক্রবার

১৫ মে, ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঈদ সামনে, সারা দেশে বাড়ছে জাল টাকার আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬ ০৬:৫১

শেয়ার

ঈদ সামনে, সারা দেশে বাড়ছে জাল টাকার আতঙ্ক
ছবি সংগৃহীত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকার চক্র। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও জেলা শহর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তাদের নেটওয়ার্ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে প্রায়ই গ্রেপ্তার হচ্ছে কারবারিরা। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ঈদের পশুর হাট ও বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনকে কেন্দ্র করে বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বর্তমানে অত্যন্ত কম খরচে উন্নত মানের জাল নোট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। আগে যেখানে ১০০টি ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট তৈরি করতে খরচ হতো ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় আড়াই হাজার টাকায়। ফলে পাইকারি বাজারেও জাল নোটের দাম কমেছে। বর্তমানে এক লাখ টাকার জাল নোট ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাল টাকার চক্র এখন অনলাইনভিত্তিক ডেলিভারি ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জাল নোট বিক্রির ঘটনাও বাড়ছে। বিশেষ করে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বেশি তৈরি করা হচ্ছে, কারণ এসব নোট বাজারে সহজে চালানো যায় এবং লাভও বেশি।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে জাল নোট তৈরির কারখানা চালু রয়েছে। সাধারণ প্রিন্টার, জলছাপ, বিশেষ কাগজ ও গাম ব্যবহার করে এমন সূক্ষ্মভাবে নোট তৈরি করা হচ্ছে যে অনেক ক্ষেত্রে আসল-নকল পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৩ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকার ৪০টি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। একই দিনে উত্তরা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযানে আরও তিনজনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট ও তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের কয়েকজন আগেও একই অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিল এবং জামিনে বেরিয়ে আবারও এ কাজে জড়িয়েছে।

গত দেড় মাসে রংপুর, পিরোজপুর, গুলশান, সদরঘাট ও তুরাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ তরুণদের সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামের সহজলভ্যতা, এজেন্ট নেটওয়ার্কের বিস্তার, জামিনে থাকা কারবারিদের পর্যবেক্ষণের অভাব এবং তুলনামূলক লঘু শাস্তির কারণে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাল নোট প্রতিরোধে সরকার নতুন আইনি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট তৈরি বা প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে।



banner close
banner close