বুধবার

১৩ মে, ২০২৬ ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

পাঁচ এনবিএফআই বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ১১:৩৮

শেয়ার

পাঁচ এনবিএফআই বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত

দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন বা বন্ধের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান।

বন্ধ বা অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণের অর্থ আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশন আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

তিনি জানান, ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ জন্য আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই অবসায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক রেজুলেশন আইনে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ, পুনর্গঠন বা বন্ধের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে নয়টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সেই তালিকায় ছিল ফাস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। এবার প্রিমিয়ার লিজিংকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।



banner close
banner close