চলতি মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই দেশে ১২৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৩ হাজার ৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, ডলারের বাজারভিত্তিক বিনিময় হার এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে সহজ লেনদেন ব্যবস্থার কারণে প্রবাসীরা আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন।
এর আগে, গত এপ্রিলে দেশে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং মার্চে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে। মার্চ মাসের এই আয় দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে।
গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এছাড়া আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠান, যা দেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের আশা, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও প্রবাসী আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন:








