সোমবার

১১ মে, ২০২৬ ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরতের দাবিতে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ১৬:৩৫

শেয়ার

চট্টগ্রামে ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরতের দাবিতে অবস্থান
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা আমানতের টাকা ফেরত, হেয়ার কাট সিদ্ধান্ত বাতিল এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

সোমবার ১১ মে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর এনায়েত বাজার এলাকায় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন শাখার সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

আন্দোলনকারীরা প্রথমে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের এনায়েত বাজার শাখার সামনে অবস্থান নেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে তারা বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো আমানতের টাকা উত্তোলনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় অনেক আমানতকারী আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ সন্তানের সেমিস্টার ফি পরিশোধ করতে পারছেন না, আবার কেউ জরুরি পারিবারিক ব্যয় মেটাতে সমস্যায় পড়েছেন।

ভুক্তভোগী আমানতকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতকারীদের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলেন, কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে রেখে এখন গ্রাহকেরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। ধাপে ধাপে টাকা ফেরত দেওয়া হলেও স্বাভাবিক লেনদেন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এর আগে গত ৬ মে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আমানতকারীরা। পরে প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে তিন দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেন।

আমানতকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।

এর আগে গত ৩ মে খাতুনগঞ্জ এবং ৪ মে আগ্রাবাদ এলাকায় একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের মোট নয়টি শাখায় তালা দেন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।



banner close
banner close