দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে, যা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হার।
বিবিএস জানায়, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই দাম বৃদ্ধির কারণে এ চাপ তৈরি হয়েছে। এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছায়।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়ে। এর মধ্যেই এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করা হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দামের এই অস্থিরতা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে, ফলে বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে।
গ্রাম-শহরে ভিন্ন চিত্র
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। একই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও প্রবণতা
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের আশপাশে থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা ৯ শতাংশ ছাড়ায়। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নামলেও এপ্রিলে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক প্রান্তিকে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্যের মধ্যে শাকসবজি, মসলা ও প্রোটিনজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিগত পদক্ষেপ ও সীমাবদ্ধতা
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খরচ, আমদানি ও বাজার তদারকিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, মজুদদারি নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ও পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম আরও বাড়লে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও তীব্র হবে।
আরও পড়ুন:








