দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ শুল্কায়ন হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ভবন। এজন্য প্রায় ৯০০ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। নির্মাণকাজ চলাকালে শুল্কায়ন কার্যক্রম সচল রাখতে কাস্টমস হাউসকে সাময়িকভাবে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ভাড়া চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চুক্তি অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস ও ৮ হাজার বর্গফুট গ্যারেজ ভাড়া নেয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে কাস্টমস হাউসের সব কার্যক্রম এই ভবনের দুটি ফ্লোরে পরিচালিত হবে। তিন বছরের জন্য ভাড়া বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮১ কোটি টাকা।
চুক্তিতে চেম্বারের পক্ষে চেম্বার প্রশাসক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন এবং কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও থাইল্যান্ডের অনারারি কনসাল আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের শেখ আবু ফয়সাল মো. মুরাদ, সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস. এম. সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী।
কাস্টমস সূত্র জানায়, নতুন ভবনটি নির্মাণ করা হবে বর্তমান ১৯৫৮ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে একই স্থানে। সেখানে ১৪ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। ভবনটিতে তিনটি বেজমেন্টসহ পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হবে। চারপাশে থাকবে সবুজায়ন ও নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপিং।
নতুন ভবনে সমন্বিত বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। শুল্কায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে থাকবে আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার। এছাড়া সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং, উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, যাত্রী ও কার্গোর জন্য একাধিক লিফট, নিজস্ব সাবস্টেশন এবং উচ্চক্ষমতার জেনারেটর ব্যাকআপ থাকবে। সেবাগ্রহীতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভবনটিতে ব্যাংক বুথ, হেল্পডেস্ক, লাইব্রেরি, আর্কাইভ, মিউজিয়াম, ডে-কেয়ার সেন্টার, মেডিকেল সেন্টার ও একটি মসজিদ রাখা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত ঠিকাদার নিয়োগের পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








