সোমবার

৪ মে, ২০২৬ ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

নিয়োগ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ মে, ২০২৬ ০৮:১০

শেয়ার

নিয়োগ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি
ছবি সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি ইসলামী ধারার ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগে দেওয়া নিয়োগ এবং পরবর্তীতে সেই কর্মীদের ছাঁটাই প্রক্রিয়া আইনসম্মত ছিল কি না—তা তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পরিদর্শক দল তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, নিয়োগে জাল সনদ ব্যবহার, বিজ্ঞপ্তি ছাড়া বায়োডাটা সংগ্রহ এবং লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই কর্মী নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে এসব নিয়োগকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে বহু কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে। এ নিয়ে চাকরিচ্যুতদের প্রতিবাদ ও পাল্টা কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি জটিল হলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে নামে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তদন্তের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, তদন্ত দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং তাদের প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হবে। নিয়োগে নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে এ প্রতিবেদন আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে ২০১৬ সালের শেষে জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। পরবর্তীতে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৩৪০ জনকে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের বড় অংশ চট্টগ্রামের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে নেওয়া হয়, যা অন্য জেলার চাকরিপ্রার্থীদের বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, যাচাই-বাছাই ছাড়া নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ৩৮৫ জনের জন্য গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয় ব্যাংকটি। এতে অংশ নেন মাত্র ৪১৪ জন। পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া বাকি কর্মীদের প্রথমে ওএসডি এবং পরে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এই পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলে আদালত বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কর্মী নিয়োগ ও চাকরিতে রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হতে পারে।



banner close
banner close