দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক বেসরকারি অফডক বা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোর (বিকডা) হ্যান্ডলিং ও পরিবহন চার্জ আরও সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গত চার মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো চার্জ বৃদ্ধি, যা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই চার্জ বৃদ্ধির ফলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে দেশের ২১টি অফডক বছরে তিন লাখের বেশি আমদানি কনটেইনার এবং প্রায় সাড়ে সাত লাখ রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করছে। বন্দর এলাকার বাইরে অবস্থিত এসব ডিপোতে পণ্যের লোডিং-আনলোডিং, সংরক্ষণ ও শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই অফডকগুলো নতুন ট্যারিফ কার্যকর করে। অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহন ও ডিপোর ভেতরে ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন ২১টি ডিপোতে গড়ে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন বিপ্লব বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে অপারেশনাল ব্যয় বেড়েছে, যা সমন্বয় করতে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার চার্জ বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, কোনো সমন্বিত নীতিমালা ছাড়াই বিভিন্ন খাতে ইচ্ছামতো চার্জ বাড়ানো হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, সম্প্রতি ২০ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধির পর আবারও সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে। আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়লে শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। এ পরিস্থিতিতে চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন:








