বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

৯ লাখ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তুতি, বৈশ্বিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:১৪

শেয়ার

৯ লাখ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তুতি, বৈশ্বিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি
ছবি সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, চূড়ান্ত আকার এখনো নির্ধারিত হয়নি। বাজেটের পরিমাণ ৯ লাখ থেকে ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে থাকতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেট এমন এক সময়ে আসছে যখন বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে বাজেটকে জনমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

বর্তমান অর্থবছরের হিসাবে দেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ২ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ দশমিক ৩৯ লাখ টাকা)। এর বিপরীতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতে আস্থাহীনতা, ব্যবসায়িক স্থবিরতা, রাজস্ব ঘাটতি এবং রপ্তানি আয়ের নিম্নগতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য সংকট ও ঋণ পরিশোধের চাপ।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকে বাজেটের আকার, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাজেট সম্প্রসারণ প্রয়োজন। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি খাতকে সহায়তা না দিলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়বে না।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ব্যয় প্রস্তাব একত্র করার কাজ চলছে। ২০ এপ্রিল বাজেট পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যেখানে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনার দিকনির্দেশনাও রয়েছে।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, জনপ্রত্যাশা পূরণ করে একটি স্থিতিশীল বাজেট প্রণয়ন সরকারের জন্য কঠিন কাজ হবে।



banner close
banner close