দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ’ সংশোধন করে নতুন আইন পাস হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংশোধিত আইনে অতীতে অভিযুক্ত ব্যাংক মালিকদের পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশটি ছিল ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মালিকানা থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের বিধান ছিল। তবে নতুন আইনে সংশোধনের মাধ্যমে সেই কঠোর অবস্থান শিথিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, সংশোধিত আইনটি প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে তড়িঘড়ি করে পাস করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তার ভাষ্য, এতে করে অতীতে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংসদে সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। তার মতে, এতে সরকারের আর্থিক চাপ কমবে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি সতর্ক করেন, ব্যাংক খাতে এমন সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।
নতুন আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, একীভূত হওয়া ব্যাংকের সাবেক মালিক বা পরিচালকরা সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিনিয়োগ করা অর্থের ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করে পুনরায় মালিকানা ফিরে পেতে পারবেন। বাকি অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদসহ পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ আগের অধ্যাদেশে দায়ী ব্যক্তিদের পুনরায় মালিকানা পাওয়ার সুযোগ ছিল না।
বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে ব্যাংক খাতে অনিয়মের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা ছিল, সেখানে নতুন আইনে তাদের জন্য ছাড় দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে করে আমানতকারীদের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন:








