মঙ্গলবার

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ আত্মসাৎের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৪

শেয়ার

ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ আত্মসাৎের অভিযোগ
ছবি এআই বানানো

ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ২৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২০,৮৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে, যার অধিকাংশই কাগুজে বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। নথিপত্র যাচাই-বাছাই না করে এবং পর্যাপ্ত জামানত না রেখে এসব ঋণ দেওয়ায় তা এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুসারে, ব্যাংকের প্রায় ১৪৮ জন কর্মকর্তার যোগসাজশে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

ইউনিয়ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ক্ষমতার পালাবদলের পর দুদকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই ২৮৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা জমা দিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঋণ অনুমোদনের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব, নথিপত্র বা ব্যবসায়িক যোগ্যতা যাচাই করা হয়নি। ফলে ঋণ আদায়ের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এতে ব্যাংকটি ভয়ানক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়েছে।

দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, ২৮৯টি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান কাগুজে হওয়ায় ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত বেনিফিশিয়ারিদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজীর আহমেদ জানান, ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২৮৯টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০,৮৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণের নামে হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে আনক্ল্যাসিফায়েড ঋণের পরিমাণ মাত্র ১২১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ব্যাংকের প্রায় ১৪৮ জন কর্মকর্তা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও যুগ্ম পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ঋণ অনুমোদনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত ডিসেম্বরকে টার্গেট করে পরিদর্শন করে এবং অনিয়ম পেলে প্রতিবেদন দেয়। উল্লিখিত ঋণগুলো সেপ্টেম্বরে দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ পরিদর্শনের প্রায় ছয় মাস আগে। তাই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি দায় নেই।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মর্ডার্ন ট্রেড অ্যান্ড বিজনেস হাউস (প্রায় ৯৮ কোটি টাকা), সুপ্রিম বিজনেস সেন্টার (প্রায় ১০২ কোটি), এস আলম অ্যান্ড কোম্পানি (প্রায় ১১৯ কোটি), এইচএস কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড (প্রায় ১৫৪ কোটি) এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান, যাদের ঋণের পরিমাণ সাধারণত ৫০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে।

বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। এ ধরনের ঘটনা ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।



banner close
banner close