রবিবার

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সিদ্ধান্তহীনতায় বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৭

শেয়ার

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সিদ্ধান্তহীনতায় বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একীভূত করা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেসরকারিকরণ নাকি রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনঃপুঁজিকরণ (রি-ক্যাপিটালাইজেশন) করা হবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় গভর্নর জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে নীতিগতভাবে দুটি বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। একটি হলো ধাপে ধাপে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করে ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়া, অন্যটি হলো দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে সম্মিলিতভাবে পুনঃপুঁজিকরণ করা। তবে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, একীভূত হওয়া এই পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে আমানতের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি বা অকার্যকর ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যেখানে কার্যকর ঋণ মাত্র ৩২ হাজার কোটি টাকার মতো।

গভর্নর আরও জানান, এ ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠনে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে মূলধন ও ডিপোজিট প্রটেকশন ফান্ড থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এসব অর্থ ব্যবস্থাপনা ও আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এসব ঋণের বিপরীতে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

এ সময় তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে ঋণকে প্রকৃত অর্থে ঋণ বলা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এবং বড় অঙ্কের অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বা অর্থ ছাপিয়ে অর্থায়ন সংক্রান্ত একটি সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনের বিষয়ে গভর্নর তা সঠিক নয় বলে জানান। ডেপুটি গভর্নর হাবীবুর রহমানও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করে, তবে সরাসরি অর্থ ছাপিয়ে ঋণ প্রদানের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সব মিলিয়ে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ এখন নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত অবস্থান নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।



banner close
banner close