বৃহস্পতিবার

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে পোশাক খাতে অর্ডার রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪৮

শেয়ার

জ্বালানি সংকটে পোশাক খাতে অর্ডার রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ
ছবি সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিং এবং জেনারেটরনির্ভর উৎপাদনের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সময়মতো রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় দিনে গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। কারখানাগুলোতে ফুয়েল পাস দেওয়া হলেও জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা মিলছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে অর্ডারও কমে আসছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, আরও কিছু কারখানা টিকে থাকার লড়াই করছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি ইনামুল হক খান জানান, স্বাভাবিক সময়ে কারখানা ১০ ঘণ্টা চালু থাকলেও এখন লোডশেডিংয়ের কারণে প্রায় অর্ধেক সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে, এতে জ্বালানি ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তিনি বলেন, “ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ না করলে ভবিষ্যৎ অর্ডার হারানোর ঝুঁকি থাকে।”

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে পোশাক রপ্তানি প্রায় ২৮১ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রপ্তানি কমেছে ৫.৫১ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আরও কমতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা আবাসিক মিশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির ওপর ভর্তুকিনির্ভরতা এবং একক আমদানি উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা বর্তমান সংকটকে গভীর করেছে। তিনি জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের ওপর জোর দেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, কারখানাগুলো এখন অতিরিক্ত খরচে উৎপাদন চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তবে ইপিজেডভুক্ত কারখানাগুলো তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও বাইরে প্রায় আড়াই হাজার কারখানার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও চাপে পড়েছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতারা অতিরিক্ত মূল্য দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় পুরো বাড়তি চাপ পড়ছে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ওপর।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে সরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের রপ্তানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।



banner close
banner close