চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই–মার্চ) রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে সরকার। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, এ সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে বাকি তিন মাসে আদায় করতে হবে ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা করে সংগ্রহ করতে হবে—যা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিন খাতে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে এনবিআর। তবে এসব উদ্যোগের পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসেনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি (১.৩০ বিলিয়ন ডলার) এখনো ছাড় করেনি। রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে পড়া এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১১.১৫ শতাংশ।
খাতভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কাস্টমস বিভাগ ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। আর আয়কর খাতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা।
সামগ্রিকভাবে, তিনটি প্রধান খাতের কোনোটিই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি, যা সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
আরও পড়ুন:








