রবিবার

১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

নতুন মূলধনী এফডিআই স্থবির, ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪১

শেয়ার

নতুন মূলধনী এফডিআই স্থবির, ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি
ছবি সংগৃহীত

দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ ২০২৫ সালে সামগ্রিকভাবে বাড়লেও নতুন মূলধনী বিনিয়োগে কার্যত স্থবিরতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিট এফডিআই দাঁড়ায় ১৭৭ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ কোটি ডলার বা ৩৯ শতাংশ বেশি। তবে নতুন মূলধনী বিনিয়োগ বেড়েছে মাত্র ১ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এফডিআই বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ ও পুনর্বিনিয়োগ থেকে। ২০২৫ সালে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩৩ কোটি ডলার বা ৩১৮ শতাংশ এবং পুনর্বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৬ কোটি ডলার বা ২৬ শতাংশ। ফলে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি মূলত ঋণনির্ভর ও বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণকেন্দ্রিক ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মূলধনী বিনিয়োগের এই স্থবিরতা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগজনক। কারণ প্রকৃত নতুন বিনিয়োগই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ঋণনির্ভর বিনিয়োগ ভবিষ্যতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়াতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং ডলার সংকট—এই পাঁচটি কারণে বিনিয়োগে ধীরগতি ছিল। দেশীয় বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নতুন মূলধন আনতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণে পিছিয়ে থাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘসূত্র অনুমোদন প্রক্রিয়াও প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে।

বিশ্বব্যাংক-এর ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া কিছু উদ্যোগ থাকলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনসংক্রান্ত অস্পষ্টতার কারণে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতার প্রধান কারণ। নির্বাচিত সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশিরা মোট ৭৩ কোটি ১২ লাখ ডলার মূলধনী বিনিয়োগ করলেও মুনাফা প্রত্যাবাসনের পর নিট মূলধনী বিনিয়োগ দাঁড়ায় ৫৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। একই সময়ে নিট পুনর্বিনিয়োগ দাঁড়ায় ৭৮ কোটি ১৬ লাখ ডলার এবং নিট আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ দাঁড়ায় ৪৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

খাতভিত্তিক তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ নিট এফডিআই এসেছে বিদ্যুৎ খাতে ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এরপর খাদ্যপণ্য ও বস্ত্র খাত উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ পেয়েছে। দেশভিত্তিক হিসেবে নেদারল্যান্ডস ছিল শীর্ষ বিনিয়োগকারী (৫৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলার), এরপর চীন (৩২ কোটি ১১ লাখ ডলার) এবং সিঙ্গাপুর (১৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার)।

সার্বিকভাবে, নিট এফডিআই প্রবাহে উন্নতি হলেও নতুন মূলধনী বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির প্রবণতা বিনিয়োগের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



banner close
banner close