বৃহস্পতিবার

১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:৩৭

শেয়ার

রেমিট্যান্সে ভর করে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
ফাইল ছবি

প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে, যা অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার ফলেই রিজার্ভের এই উন্নতি হয়েছে।

এপ্রিলের প্রথমার্ধে রেমিট্যান্সে জোরালো প্রবৃদ্ধি

চলতি এপ্রিল মাসেও প্রবাসী আয় প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধু ১৫ এপ্রিলই এসেছে ১৮১ মিলিয়ন ডলার।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ১ থেকে ১৫ এপ্রিল সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১,৪৭২ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থবছরজুড়ে রেকর্ড প্রবাহের ধারা

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৩,২৫৭ মিলিয়ন ডলার। ফলে অর্থবছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং হুন্ডি নির্ভরতা কিছুটা কমেছে।

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে, যেখানে কাট-অফ রেট ছিল ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা।

এর ফলে চলতি এপ্রিল মাসে মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। আর চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫,৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাজারে অতিরিক্ত তারল্য শোষণ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বস্তি ফিরে এলেও সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে।

তাদের মতে, রফতানি আয় বাড়ানো, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক আয়ের উৎস বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এখনো স্পষ্ট।



banner close
banner close