মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী অন্তত পাঁচটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এসব জাহাজের আগমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন চালানগুলোর মধ্যে মহেশখালীর ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) এর জন্য এলএনজি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এলপিজি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, আজ শুক্রবার মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজার ৪৭০ টন এলপিজি নিয়ে ‘মর্নিং জেলি’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘ইএমইআই’ জাহাজটি মহেশখালীর এফএসআরইউ টার্মিনালে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ১১ এপ্রিল একই টার্মিনালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় সমপরিমাণ এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামের আরেকটি জাহাজ পৌঁছাবে। ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসবে। সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬৪ হাজার ৬৭৮ টন এলএনজি নিয়ে ‘ম্যারান গ্যাস হাইড্রা’ জাহাজটি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচটি জাহাজের আগমনের ঘোষণা পাওয়া গেছে এবং এগুলো ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এসব জাহাজকে বার্থিংয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বুধবার মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে এবং পরে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করে খালাস কার্যক্রম শুরু করে। একই রাতে ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি ট্যাংকার হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে বন্দরে আসে।
জ্বালানি খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ এসে পৌঁছেছে এবং সেগুলোর খালাস প্রক্রিয়া চলমান। সাধারণত প্রতিটি এলএনজি জাহাজে ৬৯ থেকে ৭০ হাজার টন গ্যাস থাকে।
আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আটটি জাহাজে প্রায় ৬ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমাতে সহায়ক হয়েছে।
আরও পড়ুন:








