শুক্রবার

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ ছাড়ানোর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৩৪

শেয়ার

যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ ছাড়ানোর আশঙ্কা
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক চাপ আরও বাড়তে পারে—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌথ প্রভাবে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়লে এবং একই সঙ্গে টাকার মান কমে গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে দ্বৈত চাপ তৈরি হবে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমান প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে টাকার মান ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, আর জ্বালানি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, তাহলে এই চাপ আরও তীব্র হবে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।

এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে সরকারকে দেশের বাজারেও মূল্য সমন্বয় করতে হতে পারে। তবে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা গেলে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়নের ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা সরাসরি বাজারে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রি করতে হলে রিজার্ভ আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে রাজস্ব আয়, ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। প্রয়োজনে বিনিময় হার কিছুটা নমনীয় করা এবং জ্বালানি তেলের দামে আংশিক সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।



banner close
banner close