জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তালিকায় দেখা গেছে, শীর্ষ খেলাপিদের মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্রুপের। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
সোমবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তালিকা উপস্থাপন করেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন দেশের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ, শীর্ষ খেলাপিদের পরিচয় এবং ঋণ আদায়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে।
সংসদে উপস্থাপিত তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস লিমিটেড, সোনালি ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ এবং কর্ণফুলী ফুডস—যেগুলো এস আলম গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড ও বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং সিকদার গ্রুপের পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড ও পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড তালিকায় রয়েছে।
তালিকায় আরও আছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, গোলাম মোস্তফার দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড, আবদুল খালেক পাঠানের কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি এবং রফিকুল ইসলামের রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।
অর্থমন্ত্রী জানান, গত ডিসেম্বর শেষে দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। একই সঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যার মধ্যে আদালতের নির্দেশে প্রায় ৩ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে গণনা করা হয়নি।
এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এর প্রভাবে কয়েকটি ইসলামি ধারার ব্যাংক সংকটে পড়ে, যেগুলো পরবর্তীতে একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে অর্থমন্ত্রী জানান, শীর্ষ খেলাপিদের ঋণ আদায়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি চালু, ক্রেডিট রিস্ক ব্যবস্থাপনা জোরদার, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ এবং ব্যাংকিং নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে।
এদিকে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও গতিশীল করতে কাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








