বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশীয় ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে ৩৪৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই সময়ে অন্তত ১১টি ব্যাংক সিএসআর কার্যক্রমে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং ব্যালান্স শিটে ধাক্কা পড়ার কারণে ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা হ্রাস পেয়েছে। নীতিমালার কারণে পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের সিএসআর তহবিলও সংকুচিত হয়েছে। ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা পুনরুদ্ধার না হলে সিএসআর কার্যক্রমে গতি ফেরানো কঠিন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সিএসআর ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ব্যয় করতে হবে। এছাড়া ২০ শতাংশ ব্যয় করতে হবে আয়বর্ধক কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনোদনে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে ৯৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা (২৮.৫৩%), স্বাস্থ্য খাতে ৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা (২৪.৮২%), পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা (১০%), এবং অন্যান্য খাতে ১২৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা (৩৬.৬৫%)।
সিএসআর ব্যয় না করা ১১টি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। অন্যদিকে নিট মুনাফা অর্জন না হওয়া সত্ত্বেও সিএসআর ব্যয় করেছে এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
আরও পড়ুন:








