শুক্রবার

৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২০ চৈত্র, ১৪৩২

একীভূতই থাকছে পাঁচ ব্যাংক, সংশোধনী আনতে দ্রুত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:১১

শেয়ার

একীভূতই থাকছে পাঁচ ব্যাংক, সংশোধনী আনতে দ্রুত কমিটি
ছবি সংগৃহীত

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপনের লক্ষ্যে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করে আগামী রোববারের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইতোমধ্যে একীভূত পাঁচটি ব্যাংক আপাতত একীভূত অবস্থাতেই থাকবে।

গত বছরের মে মাসে জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। নতুন এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের মধ্যে বিতরণের কথা রয়েছে।

এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো অর্থ ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিশেষ স্কিমও ঘোষণা করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ব্যাংক রেজল্যুশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে। তবে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য দেশের স্বার্থে এই অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের পক্ষে মত দিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।

সংশোধনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে দ্রুত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত আইন সংসদে উত্থাপন করা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশটি সংশোধন বা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এর আওতায় গৃহীত সব পদক্ষেপ বৈধ থাকবে। পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ কেবল এই অধ্যাদেশের ভিত্তিতে নয়, ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোতেও করা হয়েছে। তবে ন্যাশনাল, এবি ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিষয়ে সম্পদের গুণগত মান যাচাই (এ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ) সম্পন্ন হলেও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে। সংস্থাটির পরবর্তী ঋণ কিস্তি ছাড়ের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আর্থিকভাবে দুর্বল কোনো ব্যাংককে সাময়িকভাবে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, একীভূতকরণ, অবসায়ন, তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি বা নতুন শেয়ার ইস্যুসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পৃথক একটি বিভাগও গঠন করা হয়েছে।

মূলত কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আর্থিক খাতে আস্থাহীনতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন করে পরবর্তীতে বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখা এবং আর্থিক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারই প্রধান উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



banner close
banner close