বৃহস্পতিবার

২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

তিন মাসে ব্যাংক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০৭

শেয়ার

তিন মাসে ব্যাংক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার
ছবি সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ব্যাংক খাত থেকে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেজারি বিল ও বন্ডের নিলামসূচি প্রকাশ করেছে।

তিন মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ও ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। বিলের মধ্যে ৯১ দিন মেয়াদি ৪৪ হাজার কোটি, ১৮২ দিন মেয়াদি ৩৬ হাজার কোটি ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি ৩০ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। বন্ডের মধ্যে দুই বছর মেয়াদি ১১ হাজার ৫০০ কোটি, তিন বছর মেয়াদি ১ হাজার ৫০০ কোটি, পাঁচ বছর মেয়াদি ৯ হাজার ৫০০ কোটি, ১০ বছর মেয়াদি ৯ হাজার ৫০০ কোটি, ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি বন্ডে যথাক্রমে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের ঋণের চাহিদা পর্যালোচনা করে এ সূচি তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি নিট ঋণ নয়; আগের বিল-বন্ডের মেয়াদ শেষে সেগুলো নতুন নিলামে নবায়ন করা হবে।

প্রয়োজনে ঘোষিত সূচির বাইরেও ঋণ নিচ্ছে সরকার। গতকাল বিশেষ নিলামে ৯১ দিন মেয়াদি বিলে ৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। ২৯ মার্চ ট্রেজারি বিলে ৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়, যার সুদ ছিল ৯ দশমিক ৭৮ থেকে ১০ শতাংশ।

ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, তিন মাসে দেড় লাখ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া কঠিন। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের মতে, সরকার বিল-বন্ড জমা রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপো ধার করতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া এই ঋণ বেতন-ভাতা, পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ায় না বরং মূল্যস্ফীতি উসকে দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৫ শেষে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, যা এক বছরে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকা; এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১০ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল এনবিআর ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। টাকা ছাপানো নয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।



banner close
banner close