বৃহস্পতিবার

২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তির খবর, আসছে বড় চালান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১৭

শেয়ার

দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তির খবর, আসছে বড় চালান
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান অস্থিরতা ও মজুত সংকট কাটাতে বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিচ্ছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়, নতুন উৎস থেকে তেল আমদানি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এছাড়া পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার শিডিউল চূড়ান্ত হয়েছে।

শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও এই মুহূর্তে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বেসরকারি শোধনাগার এবং আমদানিকৃত অকটেন দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘাটতি মেটাতে কিছু পরিমাণ অকটেন পেট্রোলে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সফল কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোর বাংলাদেশে আসার পথ সুগম হয়েছে।

এছাড়া এমটি নরডিক পলুকস নামক জাহাজে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল ছাড়িয়ে আনতেও বিশেষ আলোচনা চলছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল কেনা হয়েছে, যা আগামী মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে নিজস্ব মজুত দিয়ে উৎপাদন চালু রাখলেও নতুন আসা অপরিশোধিত তেল থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েল পাওয়া যাবে। জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ করতে সরকার এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না থেকে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এমনকি রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় দেশটি থেকে বড় অংকের ডিজেল আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ এবং দ্রুত আমদানির ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা দূর হচ্ছে এবং তিন মাসের অগ্রিম মজুত তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।

জ্বালানি বিভাগ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এলএলসি থেকে ২ লাখ টন ডিজেল, পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে ১ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন নামের কোম্পানি থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।



banner close
banner close