বুধবার

২০ মে, ২০২৬ ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডলার রিজার্ভ নেমে ৩.৮০ বিলিয়ন ডলারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৫০

শেয়ার

বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডলার রিজার্ভ নেমে ৩.৮০ বিলিয়ন ডলারে
ছবি সংগৃহীত

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিদেশি হিসাবে (নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট) ডলারের স্থিতি কমে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩.৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। রফতানিতে নেতিবাচক ধারা ও আমদানিতে স্থবিরতার মধ্যে এই পতন ঘটেছে, যদিও একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৮০ কোটি ডলারে। যা গত অর্থবছরের শুরুতে ছিল ৬.১০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসাবের ক্ষেত্রে নস্ট্রো হিসাবের ডেবিট ব্যালান্স ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই পতন অর্থনীতির একটি দুর্বল দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ বেসরকারি খাতে আমদানি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক লেনদেন সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ‘কান্ট্রি রেটিং’ অবনমন হওয়ায় বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট লাইনও কমে গেছে। এতে এক ডজনের বেশি ব্যাংকের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অতীতে বিলম্বিত এলসি দায় পরিশোধের কারণে ব্যাংকগুলোর নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে ডলারের স্থিতি কমেছে। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট লাইন কমে যাওয়াও এর একটি কারণ। তিনি জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় অনেক সময় এনওপি সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৫.৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে বেড়ে ৬.১০ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে এটি কমতে শুরু করে এবং ২০২৫ সালের জুনে ৪.২৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। পরবর্তীতে সামান্য ওঠানামার পর ফেব্রুয়ারিতে তা ৩.৮০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোর ঋণমান অবনমনের প্রভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এর ফলে বিদেশি ব্যাংকগুলো এলসি গ্যারান্টি দিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত ঋণসীমা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে নতুন বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ কমে গেছে, বিপরীতে আগের ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে বায়ার্স ক্রেডিট নেওয়াও কমে গেছে, যা ডলার প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ কমলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (বিপিএম৬) অনুযায়ী ২০২৫ সালের মার্চে রিজার্ভ ছিল ২০.১০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের ৩০ মার্চে বেড়ে ২৯.৩৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গ্রস রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার, ক্রেডিট লাইন স্বাভাবিক হওয়া এবং বিনিয়োগ বাড়লে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলার রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।



banner close
banner close