মঙ্গলবার

৩১ মার্চ, ২০২৬ ১৭ চৈত্র, ১৪৩২

বাংলাদেশ থেকে ভারতে অর্থ পাচার: বৈধ ও অবৈধ পথে অর্থ স্থানান্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫২

আপডেট: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৩

শেয়ার

বাংলাদেশ থেকে ভারতে অর্থ পাচার: বৈধ ও অবৈধ পথে অর্থ স্থানান্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে, যা বৈধ ও অবৈধ উভয় পথে হচ্ছে। অবৈধ অর্থ পাচারের পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে যে, বৈধ লেনদেনের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভারত চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাঁচ থেকে ছয় কোটি ডলার রেমিট্যান্স আকারে ভারতে পাঠানো হচ্ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে চার কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছয় কোটি ডলার রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ভারতে গেছে। তবে, বাস্তবে এই পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে কর্মরত থেকে ঘোষিত বেতনের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পাচ্ছেন, যা অবৈধভাবে ভারতে চলে যায়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার ১৬১ ভারতীয় নাগরিকের জন্য কর্মানুমতি ইস্যু করা হয়েছে, এবং ১৩ হাজার ৭৬৮টি কর্মানুমতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে বসবাস করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তারা অবৈধভাবে দেশে অবস্থান করছেন।

বিদেশি কর্মীদের বিষয়ে বিডার নির্বাহী সদস্য শাহারুল হুদা জানিয়েছেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগে সরকার কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং বেতন-ভাতা সম্পর্কিত অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে। তবে, বিদেশি কর্মীদের ঘোষিত বেতনের চেয়ে বেশি অর্থ পেলে তা তদন্ত করা সম্ভব নয়, এমন মন্তব্য করেছেন এনবিআরের সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা।

ভারত থেকে বাংলাদেশে চোরাচালান পণ্য প্রবাহিত হচ্ছে, বিশেষ করে প্রসাধনী, পোশাক ও মাদকদ্রব্য। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও চোরাকারবারীরা বিভিন্ন উপায়ে এই পণ্য বাংলাদেশে পাচার করছে। তবে, কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে চোরাচালানের পরিমাণ কিছুটা কমেছে, জানানো হয়েছে এনবিআরের এক সদস্যের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতে পণ্য আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি, যার ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্যে ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার পণ্য আমদানি করে, তবে রপ্তানি মাত্র ১.৫ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে অর্থ স্থানান্তর একটি চলমান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে, তবে পূর্ণরূপে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি।



banner close
banner close