বাংলাদেশ ব্যাংক গত কয়েক বছরে ১২টি দুর্বল ব্যাংককে মোট ৬৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি তারল্য সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয় এবং ড. আহসান এইচ মনসুরের দায়িত্বকালে ৫১ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়, যা মোট সহায়তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই সহায়তা মূলত ৯০ দিনের জন্য ১১.৫ শতাংশ সুদে ওভারনাইট সুবিধা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট জমা দিয়েছে এবং দেউলিয়া হলে তার সম্পদ বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাওনা প্রথমে পরিশোধ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের শেষ দিকে পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার পর গ্রাহকের টাকা উত্তোলনের চাপ ব্যাংকগুলোকে তারল্য সংকটে ফেলে।
সঙ্কট মোকাবিলায় কিছু ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়, শাখাগুলোতে চলতি হিসাব ঋণাত্মক রেখে লেনদেন চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সুবিধা সীমিত করা হলেও তীব্র সংকটের কারণে পুনরায় সহায়তা দিতে হয়।
সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৫,৮১০ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক ১২,০১০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১০,৮৪১ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ১০,৫৬৮ কোটি টাকা। অন্যান্য ব্যাংক যেমন ইউনিয়ন ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এবি ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকও বড় অঙ্কের সহায়তা পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এই সহায়তা মূলত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে একীভূতকরণ, পুনর্গঠন বা নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে স্থায়ী সমাধান আনতে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানো, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং ঋণ জালিয়াতির বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে ব্যাংক খাতের সংকট শুধু তারল্যের নয়, এটি আস্থার সংকট হিসেবেও দেখা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:








