মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ অর্থের সংস্থান জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৬৭ ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে ১০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ১০-১২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০-২২ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ইতোমধ্যে উচ্চ দামে কয়েকটি এলএনজি কার্গো আমদানি করতে হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার টন পরিশোধিত ও ১৪ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেট থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাড়তি জ্বালানি ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। তবে সীমিত রাজস্ব আয় ও সংশোধিত বাজেটের কারণে নিজস্ব উৎস থেকে এ অর্থ জোগান দেওয়া কঠিন। জ্বালানি আমদানির অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হওয়ায় রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার এবং এডিবির কাছ থেকে অতিরিক্ত ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছেও সহায়তার অনুরোধ জানানো হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সহায়তার জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে এবং এতে আইএমএফসহ বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়ন সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করে। স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন সীমিত হওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন:








