সোমবার

৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৬ চৈত্র, ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৫০

শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জ্বালানি সরবরাহ, রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও কৃষি—এই চারটি খাতে প্রভাব বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।

সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় দেশের শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানিনির্ভর শিল্প যেমন সিমেন্ট, ইস্পাত ও সিরামিক খাতেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

রপ্তানি খাতেও প্রভাব পড়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা ব্যয় সংকুচিত হওয়ায় তৈরি পোশাক খাতে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে অর্ডার স্থগিত ও বাতিলের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট ও ভিসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জনশক্তি রপ্তানি কমেছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদেশে কর্মী পাঠানো সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

কৃষি খাতেও সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সার আমদানি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। জাতিসংঘ ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সারের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা সরবরাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৭১ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংঘাত অব্যাহত থাকলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংঘাতের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাবের মাত্রা নির্ধারিত হবে।



banner close
banner close