রবিবার

২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

বিশ্বের সেরা ১০০ লিড কারখানার ৫২টি বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩

শেয়ার

বিশ্বের সেরা ১০০ লিড কারখানার ৫২টি বাংলাদেশে
ফাইল ছবি

পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লিড (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ পাওয়া বিশ্বের সেরা ১০০ কারখানার মধ্যে ৫২টিই বাংলাদেশে অবস্থিত। তৈরি পোশাক খাতে সবুজ কারখানা প্রতিষ্ঠায় দেশটি নতুন রেকর্ড গড়েছে।

বিদায়ী ২০২৫ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৮টি কারখানা লিড সনদ অর্জন করে, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ২৮০টি লিড সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানা রয়েছে, যা বিশ্বে সর্বাধিক। এগুলোর মধ্যে ১১৮টি প্লাটিনাম এবং ১৪৩টি গোল্ড রেটিং অর্জন করেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) আরও পাঁচটি পোশাক কারখানা নতুন করে পরিবেশবান্ধব সনদ পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এর মধ্যে তিনটি গোল্ড এবং দুটি প্লাটিনাম মান অর্জন করেছে।

সংস্থাটি জানায়, ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব সনদ দেয়। ইউএসজিবিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবুজ কারখানার এই অগ্রযাত্রা বৈশ্বিকভাবে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।

নতুন যুক্ত হওয়া সনদপ্রাপ্ত কারখানা

এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কো. লিমিটেড (ইউনিট-৭) নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। নতুন কারখানা নির্মাণ ক্যাটাগরিতে ৬৭ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড মান অর্জন করেছে। সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড ঢাকায় অবস্থিত। বিদ্যমান ভবনের পরিবেশবান্ধব পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার জন্য ৭১ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড মান অর্জন করেছে। নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড-ইউনিট ০২ ঢাকার ধামরাইয়ের জয়পুরায় অবস্থিত। নতুন নির্মাণ ক্যাটাগরিতে ৬৫ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড মান অর্জন করেছে। উইন্টার ড্রেস লিমিটেড সাভারের কালমা ডেইরি ফার্ম এলাকায় অবস্থিত। বিদ্যমান ভবনের পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার জন্য ৮৫ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম মান অর্জন করেছে। মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত। জ্বালানি ও পানির দক্ষ ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম মান অর্জন করেছে।

টেকসই শিল্পায়নে বাংলাদেশের অবস্থান

বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিদেশি ক্রেতারা কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং টেকসই উৎপাদনের বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ইতোমধ্যে সেই চাহিদার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বে পরিবেশবান্ধব কারখানার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃত্বের অবস্থানে পৌঁছেছে।

রফতানি প্রতিযোগিতায় প্রভাব

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে টেকসই উৎপাদনের গুরুত্ব বাড়ায় বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একইসঙ্গে জ্বালানি দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসের ক্ষেত্রেও এসব কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা নির্মাণের পাশাপাশি পুরনো কারখানাগুলোতেও সবুজ প্রযুক্তি ও জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। সবুজ শিল্পায়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যায় বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে টেকসই উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।



banner close
banner close