মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাবে জ্বালানি খাত ও আমদানি নির্ভর শিল্পে চাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ এ অবস্থায় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে বিশেষ জরুরি সহায়তা পেতে পারে। এডিবির এই প্যাকেজের আওতায় দেশটি প্রায় ১০০ কোটি ডলার এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অধীনে আরও ৬০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা লাভের সুযোগ রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। এডিবির বিশেষ সহায়তা পেতে বাংলাদেশকে নিডস অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বাজেট ঘাটতির ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন তুলে ধরতে হবে।
এডিবির চলমান ‘ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স’ কর্মসূচির দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আগামী জুনের মধ্যে ৬০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে, যা বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আনতে সহায়ক হবে। এ কর্মসূচির অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণ পদ্ধতি আধুনিকীকরণের মতো সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকার যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। কমিটি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করছে। কমিটি আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি ও রফতানি বাণিজ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করবে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপের সুপারিশ দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কাঠামোগত সংস্কার জোরদার করা প্রয়োজন। এডিবি, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা এবং ওপেক ফান্ডসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্ভাব্য অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে, যা স্বল্পমেয়াদে বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন:








