বৃহস্পতিবার

২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২ চৈত্র, ১৪৩২

হেয়ারকাট ঝুঁকিতে ৭৬ লাখ আমানতকারীর মুনাফা

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৫

আপডেট: ২৬ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৬

শেয়ার

হেয়ারকাট ঝুঁকিতে ৭৬ লাখ আমানতকারীর মুনাফা
ছবি সংগৃহীত

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা হ্রাস বা হেয়ারকাটের কারণে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। ভুক্তভোগী আমানতকারীরা হেয়ারকাট বাতিল করে মুনাফা পূর্ণরূপে প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, টাকা কিছুদিন পরে পেলেও চলে, কিন্তু মুনাফা কেটে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হেয়ারকাট প্রত্যাহার করা হলে আমানতকারীদের আস্থা ফিরে আসতে পারে।

একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত। এই ব্যাংকগুলো হলো ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য প্রাথমিকভাবে কোনো মুনাফা পাননি। পরে ব্যক্তিগত আমানতের ওপর চার শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা এখনও কোনো মুনাফা পাচ্ছেন না।

পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরাও হেয়ারকাট প্রত্যাহারের পক্ষে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একাধিক দফায় অনুরোধ জানিয়েছেন। ব্যাংকের আস্থা ফেরাতে হেয়ারকাট বাতিল করা সময়ের দাবি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, হেয়ারকাট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকে একীভূতকরণের দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই নতুন ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছে এবং আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। গভর্নরের নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর আইটি একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং একীভূতকরণ থেকে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। পাঁচ ব্যাংকের ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। ব্যাংকের ঋণ ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার ৭৭ শতাংশ খেলাপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ ব্যবস্থায় এক জানুয়ারি থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই লাখ টাকার বেশি আমানতকারীরা প্রতি তিন মাস পর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা তুলতে পারবেন। কিডনি ডায়ালাইসিস বা ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় যে কোনো পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।



banner close
banner close