রবিবার

২২ মার্চ, ২০২৬ ৮ চৈত্র, ১৪৩২

সর্বশেষ
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত থেকে চার শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশি আটক ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি জানুয়ারিতে ২৫ শতাংশ কমেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা রাখা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার ও স্যামসন অপশনের প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ষড়যন্ত্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক মূলধারায় আসতে পারেনি: রফিকুল ইসলাম খান সংবিধান সংশোধন জাতির দাবি: সিলেটে জামায়াত আমির ইরানের স্পিকার গালিবাফের হুঁশিয়ারি: জ্বালানি খাতে আঘাত এলে ধ্বংসাত্মক পাল্টা হামলা

ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি জানুয়ারিতে ২৫ শতাংশ কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৬ ২২:০৪

শেয়ার

ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি জানুয়ারিতে ২৫ শতাংশ কমেছে
ছবি সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ইউরো। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ইউরোর রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

রপ্তানির পরিমাণ ও গড় ইউনিট মূল্য উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশ থেকে ১২৬ দশমিক ৮০ মিলিয়ন কেজি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কমে ১০৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন কেজিতে দাঁড়িয়েছে। এতে পরিমাণগত হ্রাস ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। একই সময়ে গড় ইউনিট মূল্য প্রতি কেজি ১৫ দশমিক ০৮ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৬৬ ইউরো হয়েছে, অর্থাৎ ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ইইউ বাজারে সামগ্রিক তৈরি পোশাক আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মোট আমদানি ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে ৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ইউরো। আমদানির পরিমাণ ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৩৭৭ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন কেজিতে দাঁড়িয়েছে এবং গড় ইউনিট মূল্য ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীনের রপ্তানি ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। চীনের রপ্তানির পরিমাণ ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু ইউনিট মূল্য ৮ দশমিক ০১ শতাংশ কমেছে। তুরস্কের রপ্তানি ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ৬১৯ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে কম্বোডিয়ায় ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৭ দশমিক ০৬ শতাংশ, ভারতে ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, মরক্কোয় ১৫ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ৪৯ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু ইউনিট মূল্য ৪৪ দশমিক ৩৪ শতাংশের বেশি কমায় মোট রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়নি।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইইউর মোট পোশাক আমদানির মূল্য ছিল ৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ইউরো, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কমে ৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

ইইউ বাজারে এই সংকোচনের পেছনে ইউরোপে ভোক্তা চাহিদা হ্রাস, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, সুদের হার বৃদ্ধি, ভোক্তা আস্থা কমে যাওয়া এবং খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি অন্যতম কারণ। এছাড়া বাজারে দামের প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে, যার ফলে অনেক সরবরাহকারী দেশ পণ্যের দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে।

ইইউ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য হওয়ায় এই হ্রাস দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।



banner close
banner close