এলডিসি উত্তরণ, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বাণিজ্য জোটে যোগ দিতে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন তিন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সংস্থা। রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগ দেওয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করার তাগিদ দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক বৈঠকে এসব বাণিজ্যিক জোটে অংশগ্রহণের পক্ষে মতামত ও একটি সমন্বিত টাইমফ্রেম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করে। সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ১৮০ দিনের মধ্যে পিটিএ চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব। দেশটিকে পঞ্চম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ ও শীর্ষ দশ প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগকারীর (এফডিআই) একটি হিসেবে উল্লেখ করে সংস্থাগুলো বলেছে, এ চুক্তি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএর সম্ভাব্যতা যাচাই করে বাংলাদেশের আগ্রহপত্র পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সংস্থাগুলোর প্রস্তাবে চলতি বছর এফটিএ আলোচনা শুরু করে ২০২৮ সালের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইইউর এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। অথচ ইইউতে তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অংশ ২০২৫ সালে ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা রপ্তানি খাতে চুক্তিটির জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
চীনের নেতৃত্বাধীন আরসিইপি জোটে যোগ দিতে চলতি বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের জিডিপির ৩০ শতাংশ ধারণ করা এই জোটে আসিয়ানভুক্ত ১০ দেশ ছাড়াও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, এ জোটে অন্তর্ভুক্ত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদন হাবে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। বর্তমানে এ জোটের অন্তর্ভুক্ত ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো ইতোমধ্যে রপ্তানি ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষমতা অর্জন করায় বাংলাদেশের জোটটিতে যোগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মত সংস্থাগুলোর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোরিয়া, ইইউ ও আরসিইপি এই তিন বাণিজ্য অংশীদারিকেই বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশ ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে এসব জোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:








